সুনামগঞ্জ , বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬ , ৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
শাল্লায় ‘সমন্বয়কের পিআইসি’ : ফসলহানির ঝুঁকির সঙ্গে মানুষের দুর্ভোগ সময় পেরিয়ে গেলেও শেষ হয়নি বাঁধের কাজ, শঙ্কায় কৃষক জনগণের উন্নয়নই বিএনপির মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকই থাকছে নদী ও খাল দখলকারীরা সাবধান হয়ে যান : কৃষিমন্ত্রী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের দায়িত্ব নিলেন মিজানুর রহমান চৌধুরী পণতীর্থে মহাবারুণী স্নান আজ দখল হওয়া খালগুলো উদ্ধার করা হবে সড়কের উন্নয়নকাজে অনিয়মের অভিযোগ ‎মাসব্যাপী কিরাআত প্রশিক্ষণ কোর্সের সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠিত হাওরের বাঁধ: ‘আমরা আরম্ভ করি শেষ করি না...’ এখন থেকে কোনো ধরনের ঘুষ-দুর্নীতি সহ্য করা হবে না : বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী মিজান চৌধুরী সুনামগঞ্জ জেলা পরিষদের নতুন প্রশাসক শিলা বৃষ্টিতে বোরো ফসল আক্রান্ত, আগাম বন্যার শঙ্কায় কৃষক অপরিকল্পিত ফসল রক্ষা বাঁধে জলাবদ্ধতা, কৃষকের স্বপ্নভঙ্গের শঙ্কা মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুনে পুড়ছে প্রবাসী শ্রমিকদের জীবন শান্তিপূর্ণ দেশ গড়ার অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর হাওরে আশা-নিরাশার দোলাচল জামালগঞ্জে ব্রিটিশ বাংলা ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের ঈদ উপহার বিতরণ সুনামগঞ্জ রিপোর্টার্স ইউনিটির উদ্যোগে ইফতার ও দোয়া মাহফিল

হাওর অঞ্চলের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন

  • আপলোড সময় : ১৮-০৮-২০২৫ ০৮:৩২:৪৩ পূর্বাহ্ন
  • আপডেট সময় : ১৮-০৮-২০২৫ ০৮:৩২:৪৩ পূর্বাহ্ন
হাওর অঞ্চলের ভাষা ও সংস্কৃতি রক্ষায় উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন
বাংলাদেশের এক বিস্ময়কর ভূপ্রকৃতি হাওরাঞ্চল। এখানকার সুদীর্ঘ জলাভূমি, বিস্তৃত নীল আকাশ আর অনন্য জীবনযাপনের পদ্ধতি যুগের পর যুগ ধরে এক নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতির ধারা নির্মাণ করেছে। এই অঞ্চলের লোকগীতি, ধামাইল, মরমী গান, কিংবা গ্রামীণ কথ্যভাষা শুধু বিনোদনের উপকরণ নয়, এগুলো আমাদের সামগ্রিক জাতিসত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ। গত শনিবার সুনামগঞ্জে অনুষ্ঠিত ‘হাওর এলাকার ভাষা ও সংস্কৃতির বৈচিত্র্য অন্বেষণ’ শীর্ষক কর্মশালায় বক্তারা যথার্থভাবেই যে বিষয়টি তুলে ধরেছেন, তা হলো- এই অনন্য ঐতিহ্য এখন সংকটের মুখে। আধুনিক প্রযুক্তি এবং গ্লোবাল সংস্কৃতির প্রভাবে আঞ্চলিক ভাষা ও সংস্কৃতি বিপন্ন হয়ে পড়ছে। নতুন প্রজন্মের অনেকেই নিজেদের ঐতিহ্য সম্পর্কে জানে না, কিংবা জানতে আগ্রহও দেখায় না। অথচ এই ভাষা ও সংস্কৃতিই তাদের শেকড়ের পরিচয় দেয়, নিজস্ব পরিচয়ের বোধ জাগিয়ে তোলে। ভাষা ও সংস্কৃতিকে যে জাতি আঁকড়ে ধরে না, তার অস্তিত্বই একসময় হারিয়ে যেতে বাধ্য। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগ সমন্বিতভাবে গ্রহণ করতে হবে। আমরা মনে করি, প্রথমত আঞ্চলিক ভাষা ও সংস্কৃতি নিয়ে গবেষণার সুযোগ বাড়াতে হবে। স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হাওরাঞ্চলের লোকসংস্কৃতি সংক্রান্ত পাঠ অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। দ্বিতীয়ত, সাংস্কৃতিক উৎসব ও গণমাধ্যমে নিয়মিতভাবে হাওরের গান, নৃত্য, লোককথা প্রচারের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন। তৃতীয়ত, শিশু-কিশোরদের মধ্যে এই ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহ সৃষ্টির জন্য লাইব্রেরি, নাট্যচক্র ও সাংস্কৃতিক ক্লাবগুলোকে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, হাওরাঞ্চলের সংস্কৃতিগত বৈচিত্র্য শুধু স্থানীয় জনগোষ্ঠীর নয়, সারাদেশের জন্যই একটি ঐশ্বর্য্য। এই ঐতিহ্য হারালে সেটি আর ফিরে পাওয়া যাবে না। তাই এখনই সময় দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এগিয়ে আসার, ভাষা ও সংস্কৃতির এই স¤পদকে পরম মমতায় সংরক্ষণের।

নিউজটি আপডেট করেছেন : SunamKantha

কমেন্ট বক্স